TRW Law Firm – Global Header

আগাম জামিন কীভাবে নেবেন ২০২৪ সালে

by Tahmidur Remura Wahid | Oct 17, 2024 | Bail, BD Law | 0 comments

আগাম জামিন কীভাবে নেবেন?

হঠাৎ দেখলেন আপনার নাম গ্রেফতার এর ওয়ারেন্ট আসছে বা আপনার এরেস্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাহলে আপনি কি করবেন। গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট আসলে কি করবেন তা হলো নিজে থানায় যাবেন না খোঁজ নিতে কাউকে পাঠাবেন আপনার নাম কেন গ্রেফতার এর ওয়ারেন্ট হলো? খোঁজ নিয়ে জানার পর হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিবেন আমল অযোগ্য অপরাধ হলে। ৪৯৮ ধারায় আগাম জামিন চাইতে হবে হাই কোর্ট থেকে যা আপনাকে কয়েক সপ্তাহের জন্য দিবে।তবে আগাম জামিন পেলে দেশ ত্যাগ করা যাবে না। কোন প্রকার অপরাধ করা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে, আইন ভঙ্গের কোন কাজ করলে জামিন বাতিল হয়ে যাবে।

আগাম জামিন

আপনার বিরুদ্ধে আদালতে কোনো ব্যক্তি মামলা করেছে। সেই মামলায় আপনাকে আদালত থেকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আপনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, এখন কী করা যায়, তা ভেবে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন নিতে হবে। কিন্তু জামিন বিষয়টা অনেকেই জানেন না। 

জামিন দুই ধরনের। একটি হলো আগাম জামিন, অন্যটি অন্তর্বর্তীকালীন।

আগাম জামিন : 

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আদালত থেকে যে জামিন নিয়ে থাকেন, সেটাকে আগাম জামিন বলা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন : 

কারাগারে আটক অবস্থায় মামলা নিষ্পত্তির আগপর্যন্ত যে জামিন নেওয়া হয়, তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বলা হয়।

যখন কোনো ব্যক্তির কাছে বিশ্বাস করার এমন কারণ থাকে যে তিনি কোনো জামিন অযোগ্য অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন, তখন তিনি হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করলে ভবিষ্যতে গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত রাখার জন্য আগাম জামিনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

আগাম জামিন অনুমোদন করার জন্য আইনের বিধানে কোনো নির্দিষ্ট ধারা নেই।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারাকে ব্যাখ্যা করে পরবর্তীকালে আগাম জামিন দেওয়া অব্যাহত রাখেন আদালত। তাই আগাম জামিনের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

এই ধারাবলে হাইকোর্ট বিভাগ যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন; এই অংশের ব্যাখ্যা দেন কেবল হাইকোর্ট বিভাগ।

আগাম জামিনের শুনানিতে যা উপস্থাপন করতে হয় :

আগাম জামিন পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে আদালতের সামনে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সরকারের বিরাগভাজন হয়ে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন। তাঁকে দেখাতে হবে যে রাষ্ট্রপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চায় এবং এতে করে তাঁর সুনাম এবং স্বাধীনতায় অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন : কোনো ব্যক্তি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর মামলা নিষ্পত্তির আগপর্যন্ত কারাগার থেকে বের হতে হলে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জামিনের জন্য কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে তাঁকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁকে জামিন আবেদন করতে হয়। জামিন নামঞ্জুর হলে দায়রা জজ এবং জেলা জজ আদালতে আসতে হয়। সেখানেও জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করতে হয়। হাইকোর্টে জামিন নামঞ্জুর হলে সর্বশেষ ভরসা আপিল বিভাগের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

এর প্রতিটি ধাপের যেকোনো একটি আদালতে জামিন হলে তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন, যদি না এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বা বিরোধী পক্ষ আপিল না করে।

করণীয়
মামলায় জড়ানোর পর জামিন পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে এর আগে আসামিকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বা অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা হবে। তাই জামিন নেওয়া তাঁর একান্ত প্রয়োজন।

আগাম জামিন মূলত, পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচা ও সারেন্ডার করার প্রস্তুতির জন্য উঁচ্চ আদালত থেকে সাময়িক সময়ের জন্য জামিন বা মুক্তি।

সি.আর মামলায় ওয়ারেন্ট হবার পর আগাম জামিন নিতে হয়, (তবে অবশ্যই চার্জ গঠনের পূর্বে)।

অন্যদিকে, FIR হলে চার্জশীট হবার পূর্ব পর্যন্ত যেকোন সময় আগাম জামিন নেয়া যায়।

লক্ষণীয় ব্যাপার, সি.আর মামলায় তদন্ত পর্যায়ে বা সমন স্টেজে গ্রেফতার বা হয়রানি করার সুযোগ নেই, কিন্তু ওয়ারেন্ট হলে যেকোন সময় গ্রেফতার করতে পারে। তাই সি.আর মামলায় ওয়ারেন্ট হবার পর জামিন নিতে হয়।

Loading…

Loading… | 5 MIN READ | BY TAHMIDUR REMURA WAHID