তালাকের নিয়ম এবং তালাক কখন কার্যকর হয়?
আমাদের সমাজে স্বামী তার স্ত্রীকে মুখে মুখে একই সাথে পর পর এক, দুই ও তিন তালাক দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশের আইনে এই তালাক গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকরী নয়। তালাক কার্যকর হয় তালাক দেওয়ার ৯০ দিন পর। তবে তার জন্য তালাকের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। তালাক দেওয়ার নিয়মগুলো ঠিক মত অনুসরণ করে তালাক দিতে হবে। তালাকের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অতিক্রম করলে ডিভোর্স সম্পন্ন হয়ে যাবে।
তালাকের নিয়ম
প্রথম কথা হচ্ছে, মুখে তালাক দিলে তা কার্যকর হবে না। আপনাকে বাংলাদেশের আইনে তালাকের নিয়ম জানতে হবে। আইনত মৌখিকভাবে তালাক দিলে তা কার্যকর হবে না। তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী নিম্নোক্ত ধাপ সমুহ অনুসরণ করতে হবে :
১. লিখিতভাবে তালাক দিতে হবে। লিখিত তালাক দেওয়ার সময় তালাক দাতা এবং স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর লাগবে।
২. সংশ্লিষ্ট নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের(কাজী অফিস) কাছে তালাক নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রার করতে হবে।
৩. যাকে তালাক দেওয়া হয়েছে তাকে তালাকের নোটিশ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও ইউনিয়ন বা পৌরসভার চেয়ারম্যানকে নোটিশের কপি পাঠাতে হবে।
৪. চেয়ারম্যান উভয় পক্ষেকে সমঝোতা করার জন্য সালিশের ব্যবস্থা করবেন।
৫. সালিশি পরিষদে সমঝোতা না হলে এবং তালাক দাতা ৯০ দিনের মধ্যে তালাক প্রত্যাহার না করলে তবে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

আমাদের সমাজে স্বামী তার স্ত্রীকে মুখে মুখে একই সাথে পর পর এক, দুই ও তিন তালাক দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশের আইনে এই তালাক গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকরী নয়। তালাক কার্যকর হয় তালাক দেওয়ার ৯০ দিন পর। তবে তার জন্য তালাকের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। তালাক দেওয়ার নিয়মগুলো ঠিক মত অনুসরণ করে তালাক দিতে হবে। তালাকের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অতিক্রম করলে ডিভোর্স সম্পন্ন হয়ে যাবে।
তালাক কার্যকরের দিন গণনা
তালাকের নোটিশ প্রদানের পর থেকে ৯০ দিন হিসাব করতে হবে। যেহেতু এই সময় তালাক কার্যকর হয়নি সুতরাং এই তিন মাস স্বামী তার স্ত্রীর খোরপোষ বা ভরনপোষনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে নব্বই দিন পর আর তা বহন করতে হবে না। তবে এখানে উল্লেখ্য তালাক প্রদানের সময় যদি স্ত্রী গর্ভবতী থাকে অথবা ইদ্দতকালীন সময়ের মধ্যে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় তাহলে তালাক কার্যকরের দিন গণনা হবে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে। অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে।
উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে তালাক কার্যকর হবে। তালাক দেওয়ার পূর্বে এবং পরে অভিজ্ঞ উকিলের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আইনি সমস্যায় পড়তে হবে না। আর তালাক কার্যকর হলে ডিভোর্স সার্টিফিকেট নেওয়া যাবে।
তালাক দেওয়ার নিয়ম হলো স্বামী স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ দেবেন এবং নোটিশের একটি অনুলিপি স্থানীয় চেয়ারম্যান/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনকে পাঠাবেন, এবং একই সাথে নোটিশের অনুলিপি স্ত্রীকে দেবেন; এরপর ৯০ দিনের ইদ্দতকালীন সময় শেষে তালাক কার্যকর হবে, এই সময়ে সমঝোতার সুযোগ থাকবে, এবং প্রয়োজনে তালাকে হাসান বা সুন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করা উত্তম, যেখানে -এর নিয়তে নির্দিষ্ট শব্দ বা ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা যায়, তবে এক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতি ও আইনের ধারা অনুসরণ জরুরি।
তালাক প্রদানের পদ্ধতি:
- নোটিশ প্রদান: স্বামী যেকোনো পদ্ধতিতে তালাক ঘোষণা করার পর, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন চেয়ারম্যানকে একটি নোটিশ পাঠাবেন এবং নোটিশের একটি অনুলিপি স্ত্রীকে পাঠাবেন।
- সালিশি পরিষদ : চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার জন্য একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবেন।
- ইদ্দতকাল(৯০ দিন): নোটিশ প্রদানের দিন থেকে ৯০ দিনের ইদ্দতকাল শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে স্বামী তালাক প্রত্যাহার করতে চাইলে পারেন, অথবা সমঝোতা না হলে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়।
- তালাক প্রত্যাহার: ইদ্দতকালের মধ্যে স্বামী লিখিতভাবে তালাক প্রত্যাহার করলে তালাক বাতিল হয়ে যাবে।
তালাকের প্রকারভেদ:
- তালাকে ‘মু’আলাক্ব’ (শর্তসাপেক্ষে): শর্ত পূরণ হলে তালাক কার্যকর হয়, যেমন, “তুমি বাপের বাড়ি গেলে তালাক”।
- সর্বোত্তম পদ্ধতি: তালাক দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি, যেখানে স্বামী স্ত্রীকে এক বৈঠকে, এক ত্বহরে (ঋতুস্রাবের বিরতির পর) তালাক দেন, যা উত্তম পদ্ধতি (যদি তালাকে ‘বায়েন’ হয়)।
- তালাকে বায়েনঃ ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এরপর পুনরায় সম্পর্ক চাইলে নতুন করে বিয়ে করতে হবে (হিল্লা বিয়ে)।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- মুখে “তালাক” তিনবার উচ্চারণ করলে বা একসঙ্গে “বায়েন তালাক” বললে সঙ্গে সঙ্গে তালাক কার্যকর হয় না; আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
- তালাকের নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ; নিয়ত ছাড়া নির্দিষ্ট শব্দ বললে তালাক হবে না।
- তালাকের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই আইন মেনে চলতে হবে এবং শালীনতা বজায় রাখতে হবে।
স্ত্রী কীভাবে তালাক চাইতে পারে:
- স্ত্রী নিজে তালাক দিতে পারে না, তবে স্বামী যদি তাকে বিয়ের সময় বা পরে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করেন (তালাকে তাফউইজ), তবে স্ত্রী তা প্রয়োগ করতে পারেন।
- স্ত্রী “খোলা” (Khu’l) এর মাধ্যমেও তালাক চাইতে পারেন, যা একটি সমঝোতামূলক প্রক্রিয়া।
এই নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি, কারণ ভুল পদ্ধতিতে তালাক দিলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
