বাংলাদেশে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন আইনজীবী নিয়োগ করা কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত এবং আইনসম্মত করে তোলে। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর জটিল বিধানগুলো সঠিকভাবে মেনে চলতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা অপরিহার্য।
কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন আইনজীবীর কাজ
কোম্পানির ধরন নির্বাচনে পরামর্শ
নাম ছাড়পত্র আবেদন সহায়তা
MoA ও AoA ড্রাফটিং
আরজেএসসিতে ফাইলিং ও ফলো-আপ
সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন সংগ্রহ
পোস্ট-ইনকর্পোরেশন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন
আইনজীবী ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের ঝুঁকি
আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া কোম্পানি নিবন্ধনে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে: MoA ও AoA-তে ত্রুটি, নামকরণে আইনি বাধা, ফর্ম পূরণে ভুল, এবং আরজেএসসি কর্তৃক আবেদন প্রত্যাখ্যান।
বাংলাদেশে কোম্পানি আইনজীবী নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনার ব্যবসার আইনি ভিত্তি মজবুত করার জন্য অপরিহার্য। TRW আইন ফার্মের ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট আইনজীবী।
কোম্পানি আইন বাংলাদেশ বলতে মূলত কোম্পানি আইন ১৯৯৪ (Companies Act 1994) বোঝায়, যা বাংলাদেশে কোম্পানি গঠন, পরিচালনা, এবং বিলুপ্তির মূল আইনি কাঠামো প্রদান করে। এই আইনটি ৪৫৫টি ধারা এবং ১২টি তফসিল নিয়ে গঠিত।
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর মূল বিভাগসমূহ
বিভাগ
ধারা
বিষয়বস্তু
প্রথম ভাগ
১-৩৩
কোম্পানি গঠন ও নিবন্ধন
দ্বিতীয় ভাগ
৩৪-৮৫
শেয়ার ও মূলধন
তৃতীয় ভাগ
৮৬-১৩৫
পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা
চতুর্থ ভাগ
১৩৬-১৮৫
সাধারণ সভা ও ভোটাধিকার
পঞ্চম ভাগ
১৮৬-২৩০
হিসাব ও নিরীক্ষা
ষষ্ঠ ভাগ
২৩১-৩৩০
কোম্পানি বিলুপ্তি
গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ
ধারা ১১: কোম্পানি নিবন্ধন
এই ধারায় কোম্পানি নিবন্ধনের পদ্ধতি, MoA ও AoA জমাদানের বিধান এবং সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন প্রদানের নিয়ম বর্ণিত আছে।
ধারা ৯৫: পরিচালকদের দায়িত্ব
পরিচালকদের ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব, কোম্পানির স্বার্থে কাজ করার বাধ্যবাধকতা এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানোর বিধান।
ধারা ১৮১: বার্ষিক সাধারণ সভা
প্রতি বছর AGM অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা, নোটিশের সময়সীমা এবং কোরামের বিধান।
ধারা ১৮৯: বার্ষিক হিসাব
কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত ও দাখিলের বাধ্যবাধকতা। বিস্তারিত: কোম্পানির বার্ষিক রিটার্ন।
কোম্পানি আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী
কোম্পানি (সংশোধন) আইন ২০২০ মূল আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে: ওয়ান পার্সন কোম্পানি (OPC) প্রবর্তন, ডিজিটাল ফাইলিং বাধ্যতামূলক, এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স জোরদার।
বাংলাদেশে লিমিটেড কোম্পানি খোলার খরচ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রতিটি উদ্যোক্তার জন্য জরুরি। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এবং আরজেএসসির ফি শিডিউল অনুযায়ী এই খরচ নির্ধারিত হয়।
সরকারি ফি ও চার্জ
লিমিটেড কোম্পানি খোলার সরকারি খরচ তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: আরজেএসসি নিবন্ধন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, এবং নাম ছাড়পত্র ফি। বিস্তারিত ফি তালিকা দেখুন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন খরচ।
বাংলাদেশে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন খরচ নির্ভর করে কোম্পানির ধরন, অনুমোদিত মূলধন এবং আইনজীবীর ফি-এর উপর। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর Schedule II অনুযায়ী আরজেএসসির ফি নির্ধারিত হয়।
আরজেএসসি নিবন্ধন ফি
অনুমোদিত মূলধন
নিবন্ধন ফি
স্ট্যাম্প ডিউটি
১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
৩,৫০০ টাকা
৫০০ টাকা
১-৫ লক্ষ টাকা
৫,০০০ টাকা
১,০০০ টাকা
৫-১০ লক্ষ টাকা
৮,০০০ টাকা
১,৫০০ টাকা
১০ লক্ষ - ১ কোটি
১৫,০০০ টাকা
৩,০০০ টাকা
১-৫ কোটি টাকা
২৫,০০০ টাকা
৫,০০০ টাকা
৫ কোটির উপরে
৫০,০০০ টাকা
১০,০০০ টাকা
অন্যান্য খরচ
খরচের ধরন
আনুমানিক পরিমাণ
নাম ছাড়পত্র ফি
২০০-৫০০ টাকা
MoA ও AoA নোটারি চার্জ
১,০০০-৩,০০০ টাকা
আইনজীবী ফি
১০,০০০-৫০,০০০ টাকা
ট্রেড লাইসেন্স ফি
৫,০০০-২০,০০০ টাকা
TIN সার্টিফিকেট
বিনামূল্যে
ভ্যাট নিবন্ধন
বিনামূল্যে
মোট আনুমানিক খরচ
একটি সাধারণ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (১০ লক্ষ টাকা মূলধন) নিবন্ধনের মোট খরচ সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকার মধ্যে হয়, যার মধ্যে আইনজীবীর ফি অন্তর্ভুক্ত।