আরজেএসসি নাম ছাড়পত্র কোম্পানি নিবন্ধনের প্রথম ও অপরিহার্য ধাপ। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১১(২) এবং কোম্পানি (নাম নির্ধারণ) বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানির নাম অনন্য, অবিভ্রান্তিকর এবং আইনসম্মত হতে হবে।
নাম ছাড়পত্রের আইনি ভিত্তি
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১১ অনুযায়ী, আরজেএসসি নিম্নলিখিত কারণে নাম প্রত্যাখ্যান করতে পারে: বিদ্যমান কোম্পানির নামের সাথে মিল, অশ্লীল বা আপত্তিকর শব্দ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে সাদৃশ্য, এবং বিভ্রান্তিকর শব্দ ব্যবহার।
নামকরণের নিয়মাবলী
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নামের শেষে "Private Limited" বা "Pvt. Ltd." থাকতে হবে
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির নামের শেষে "Public Limited" বা "PLC" থাকতে হবে
নামে বাংলা বা ইংরেজি উভয় ভাষা ব্যবহার করা যাবে
নামটি কমপক্ষে ৩টি শব্দ দিয়ে গঠিত হওয়া বাঞ্ছনীয়
অনলাইনে নাম ছাড়পত্রের আবেদন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: পোর্টালে নিবন্ধন
আরজেএসসি পোর্টালে (roc.gov.bd) একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
ধাপ ২: নাম অনুসন্ধান
প্রস্তাবিত নামটি পোর্টালে অনুসন্ধান করুন। যদি নামটি পাওয়া না যায়, তাহলে আবেদন করুন।
ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ
কোম্পানির ধরন, প্রস্তাবিত নাম (৩টি বিকল্প সহ), ব্যবসার প্রকৃতি এবং আবেদনকারীর তথ্য পূরণ করুন।
ধাপ ৪: ফি পরিশোধ
অনলাইনে ২০০-৫০০ টাকা ফি পরিশোধ করুন।
ধাপ ৫: অনুমোদন
সাধারণত ১-৩ কার্যদিবসের মধ্যে নাম ছাড়পত্র পাওয়া যায়। অনুমোদিত নাম ৩০ দিন সংরক্ষিত থাকে।
আরজেএসসি (Registrar of Joint Stock Companies and Firms) বাংলাদেশের কোম্পানি নিবন্ধনের একমাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষ। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৩৩ অনুযায়ী আরজেএসসি প্রতিষ্ঠিত এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
আরজেএসসির কার্যাবলী
কোম্পানি নিবন্ধন ও নাম ছাড়পত্র প্রদান
বার্ষিক রিটার্ন গ্রহণ ও সংরক্ষণ
কোম্পানির তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ
কোম্পানি বিলুপ্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা
শেয়ার হস্তান্তর নথিভুক্তকরণ
আরজেএসসি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার
আরজেএসসির অনলাইন পোর্টাল (roc.gov.bd) ব্যবহার করে নিম্নলিখিত সেবাগুলো পাওয়া যায়: নাম ছাড়পত্র আবেদন, কোম্পানি নিবন্ধন আবেদন, বার্ষিক রিটার্ন দাখিল, এবং কোম্পানির তথ্য অনুসন্ধান। বিস্তারিত: আরজেএসসি নাম ছাড়পত্র।
আরজেএসসিতে জমাদানযোগ্য ফর্মসমূহ
ফর্ম নম্বর
বিষয়
সময়সীমা
Form I
MoA ও AoA নিবন্ধন
নিবন্ধনের সময়
Form IX
পরিচালকদের সম্মতিপত্র
নিবন্ধনের সময়
Form X
নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা
নিবন্ধনের সময়
Form XII
পরিচালকদের বিবরণ
নিবন্ধনের সময়
Form XV
বার্ষিক রিটার্ন
প্রতি বছর AGM-এর পর
Form XVII
শেয়ার হস্তান্তর
হস্তান্তরের সময়
আরজেএসসি রেজিস্ট্রেশনের সময়কাল
সকল কাগজপত্র সঠিক থাকলে আরজেএসসি সাধারণত ৭-১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন প্রদান করে। তবে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবসায়িক কাঠামো। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হলো এমন একটি কোম্পানি যা তার আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরের অধিকার সীমিত করে এবং সদস্য সংখ্যা ৫০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্য
ন্যূনতম ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন শেয়ারহোল্ডার
ন্যূনতম ২ জন পরিচালক
শেয়ার হস্তান্তরে বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন
পাবলিক সাবস্ক্রিপশন নিষিদ্ধ
বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) বাধ্যতামূলক
রেজিস্ট্রেশনের আইনি ধাপ
ধাপ ১: নাম ছাড়পত্র
আরজেএসসি পোর্টালে কোম্পানির নাম অনুসন্ধান ও অনুমোদন। বিস্তারিত: আরজেএসসি নাম ছাড়পত্র।
বাংলাদেশে লিমিটেড কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন একটি জনপ্রিয় ব্যবসায়িক কাঠামো। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে লিমিটেড কোম্পানি গঠন করলে শেয়ারহোল্ডারদের দায়বদ্ধতা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
লিমিটেড কোম্পানির আইনি সংজ্ঞা
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, লিমিটেড কোম্পানি হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে সদস্যদের দায়বদ্ধতা তাদের ধারণকৃত শেয়ারের অপরিশোধিত মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটি একটি পৃথক আইনি সত্তা (Separate Legal Entity) হিসেবে বিবেচিত।
লিমিটেড কোম্পানির প্রকারভেদ
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি: ২-৫০ জন শেয়ারহোল্ডার, শেয়ার হস্তান্তরে বাধা
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি: ন্যূনতম ৭ জন শেয়ারহোল্ডার, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি সম্ভব
ওয়ান পার্সন কোম্পানি: একক ব্যক্তির মালিকানাধীন লিমিটেড কোম্পানি
লিমিটেড কোম্পানির সুবিধাসমূহ
লিমিটেড কোম্পানি গঠনের প্রধান সুবিধাগুলো হলো: সীমিত দায়বদ্ধতা (কোম্পানির ঋণের জন্য ব্যক্তিগত সম্পদ ঝুঁকিতে পড়ে না), স্থায়িত্ব (শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তনে কোম্পানির অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে), বিনিয়োগ আকর্ষণ, এবং কর সুবিধা।
বাংলাদেশে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রতিটি উদ্যোক্তার জন্য অপরিহার্য। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে আরজেএসসি (Registrar of Joint Stock Companies and Firms) এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।
রেজিস্ট্রেশনের পূর্বপ্রস্তুতি
কোম্পানি নিবন্ধনের আগে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে হবে: কোম্পানির ধরন (প্রাইভেট/পাবলিক), ব্যবসার উদ্দেশ্য, অনুমোদিত মূলধন, পরিচালক মণ্ডলী, এবং নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা।
নাম ছাড়পত্রের নিয়ম
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১১(২) অনুযায়ী, কোম্পানির নাম অবশ্যই অনন্য হতে হবে। নামে "Limited", "Ltd.", "Public Limited" বা "PLC" শব্দ থাকতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মিল থাকা নিষিদ্ধ। আরজেএসসি নাম ছাড়পত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস প্রস্তুতির নিয়ম
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১১ অনুযায়ী MoA-তে অবশ্যই থাকতে হবে: কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের জেলা, কোম্পানির উদ্দেশ্য, সদস্যদের সীমিত দায়বদ্ধতার ঘোষণা, এবং মূলধন বিবরণী। মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন সম্পর্কে আরও জানুন।
আরজেএসসিতে ফাইলিংয়ের নিয়ম
অনলাইনে আরজেএসসি পোর্টালে নিম্নলিখিত ফর্মগুলো জমা দিতে হয়: Form I (MoA ও AoA), Form IX (পরিচালকদের সম্মতিপত্র), Form X (পরিচালকদের তালিকা), Form XII (পরিচালকদের বিবরণ), এবং Form X (নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা)।
ব্যারিস্টার রেমুরা মেহেরুবা মাহবুব: কর্পোরেট আইন বিশেষজ্ঞ
ব্যারিস্টার রেমুরা মেহেরুবা মাহবুব TRW আইন ফার্মের সিনিয়র পার্টনার এবং কর্পোরেট আইন ও কোম্পানি নিবন্ধনে বিশেষজ্ঞ। তিনি দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের কোম্পানি গঠন ও পরিচালনায় আইনি পরামর্শ প্রদান করেন। আজই পরামর্শ নিন।