TRW Law Firm - Global Header
Uncategorized

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার

May 15, 2026 1 min read by Tahmidur Remura Wahid

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার: আপনার ব্যবসার জন্য আইনি বিশ্লেষণ ও পরামর্শ

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নীতিমালা, নির্দেশিকা এবং সার্কুলার (Circular) জারি করে থাকে। এই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার গুলো দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী সংস্থা এবং এমনকি সাধারণ ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সার্কুলারগুলো আর্থিক লেনদেনের নিয়মাবলী, ঋণ প্রদানের শর্তাবলী, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করে। একজন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে এই সার্কুলারগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা এবং সে অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করা অপরিহার্য। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি জটিলতা, জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের মতো গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

এই ব্লগ পোস্টে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এর গুরুত্ব, এর বিভিন্ন দিক, এবং কিভাবে এই সার্কুলারগুলো আপনার ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এছাড়াও, এই সার্কুলারগুলো অনুধাবন এবং সে অনুযায়ী আইনি পরামর্শ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার কী এবং এর গুরুত্ব

বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank) হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা দেশের মুদ্রা ও ঋণ নীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধান এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞপ্তি, প্রজ্ঞাপন, আদেশ বা নির্দেশ জারি করে, যা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার নামে পরিচিত। এই সার্কুলারগুলো মূলত:

  • নীতিমালা নির্ধারণ: ব্যাংকিং কার্যক্রম, ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, বৈদেশিক বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন বা বিদ্যমান নীতিমালায় পরিবর্তন আনা।
  • নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশনা প্রদান।
  • ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: আর্থিক খাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশিকা।
  • আইন ও বিধি বাস্তবায়ন: নতুন আইন বা বিধির বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি।

এই সার্কুলারগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম কারণ:

  • আইনি বাধ্যবাধকতা: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সার্কুলারগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় আইন লঙ্ঘনের শামিল।
  • আর্থিক স্থিতিশীলতা: সার্কুলারগুলো দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • গ্রাহক সুরক্ষা: অনেক সার্কুলার গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করে, যেমন – ঋণের সুদের হার নির্ধারণ, চার্জ ও ফি সম্পর্কিত নির্দেশনা।
  • আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমন ইত্যাদি বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সার্কুলার জারি করা হয়।

বিভিন্ন প্রকার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এবং তাদের প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বিষয়ে সার্কুলার জারি করে থাকে। এদের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ঋণ ও অগ্রিম সম্পর্কিত সার্কুলার

এই সার্কুলারগুলো ঋণ বিতরণ, ঋণের সুদের হার, ঋণের শ্রেণীকরণ, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) ঋণ, কৃষি ঋণ ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, কোন খাতে কত শতাংশ ঋণ দিতে হবে, অথবা নতুন ঋণের জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, তা এই সার্কুলারগুলোতে উল্লেখ থাকে। ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এই সার্কুলারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা এবং ঋণের শর্তাবলী নির্ধারণ করে।

২. বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সার্কুলার

আমদানি-রপ্তানি, রেমিটেন্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বিদেশি ঋণ গ্রহণ এবং বিদেশে অর্থ প্রেরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মকানুন বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই সার্কুলারগুলো বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সার্কুলারগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যক।

৩. মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (AML & CFT) সার্কুলার

মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ ব্যাংক এই অপরাধ দমনের জন্য নিয়মিতভাবে কঠোর নির্দেশনা জারি করে। এই সার্কুলারগুলো গ্রাহক পরিচিতি (KYC), সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (STR), নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দেয়। সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট কিছু নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই সার্কুলারগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়।

৪. ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত সার্কুলার

ডিজিটাল ব্যাংকিং এর প্রসারের সাথে সাথে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার হামলা প্রতিরোধ, ডেটা সুরক্ষা, অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়। এই সার্কুলারগুলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং ডিজিটাল লেনদেন নিরাপদ করতে সহায়তা করে।

৫. গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি সম্পর্কিত সার্কুলার

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সার্কুলার জারি করে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং সেবা চার্জ, সুদের হার, এটিএম সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং এবং অন্যান্য আর্থিক সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ। এই সার্কুলারগুলো গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. ব্যাংকিং লাইসেন্স ও পরিচালনা সম্পর্কিত সার্কুলার

নতুন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন, তাদের পরিচালনা পদ্ধতি, মূলধন পর্যাপ্ততা, পরিচালনা পর্ষদের যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এর মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই সার্কুলারগুলো দেশের আর্থিক খাতের কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার কেন আইনি বিশ্লেষণের প্রয়োজন?

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার গুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়, তবে এগুলোর ভাষা প্রায়শই জটিল এবং প্রযুক্তিগত পরিভাষায় পূর্ণ থাকে। একজন সাধারণ ব্যবসায়ী বা এমনকি একজন নন-আইনজীবী ব্যাংকারও এর সম্পূর্ণ অর্থ এবং প্রয়োগগত দিক অনুধাবন করতে হিমশিম খেতে পারেন। এখানেই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

  • জটিলতা ও ব্যাখ্যার ভিন্নতা: সার্কুলারগুলির আইনি ভাষা এবং বিভিন্ন ধারার মধ্যে সম্পর্ক বোঝা জটিল হতে পারে। ভুল ব্যাখ্যা মারাত্মক আইনি পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
  • নিয়মিত পরিবর্তন: বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে নতুন সার্কুলার জারি করে বা পুরোনো সার্কুলার সংশোধন করে। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং সে অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন।
  • ব্যবসায়িক প্রভাব: একটি সার্কুলারের বিধান আপনার ব্যবসার নির্দিষ্ট দিকগুলিতে কিভাবে প্রভাব ফেলবে, তা একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
  • ঝুঁকি প্রশমন: আইনি বিশ্লেষণ আপনাকে সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি চিহ্নিত করতে এবং সে অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহায্য করবে।
  • সম্মতি নিশ্চিতকরণ: আইনি পরামর্শ আপনার ব্যবসা বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল প্রয়োজনীয় সার্কুলার মেনে চলছে কিনা, তা নিশ্চিত করবে।
  • মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি: সার্কুলার সম্পর্কিত কোনো আইনি বিরোধ বা মামলা হলে, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী আপনাকে কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

আপনার ব্যবসার জন্য আইনি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

আপনার ব্যবসা যদি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত হয়, অথবা আপনি যদি আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বা রেমিটেন্স সংক্রান্ত কাজ করেন, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এর আইনি দিকগুলি সম্পর্কে অবগত থাকা আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল পদক্ষেপ আপনার ব্যবসাকে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

একজন অভিজ্ঞ আইনি পরামর্শক আপনাকে নিম্নলিখিত বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন:

  • সার্কুলার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা: আপনার ব্যবসার সাথে প্রাসঙ্গিক সার্কুলারগুলি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা এবং এর আইনি প্রভাব সম্পর্কে জানানো।
  • সম্মতি নিশ্চিতকরণ: আপনার ব্যবসা বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল নিয়মকানুন মেনে চলছে কিনা, তা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া।
  • নীতিমালা প্রণয়ন: সার্কুলারগুলির সাথে সঙ্গতি রেখে আপনার অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া তৈরি করতে সহায়তা করা।
  • ঝুঁকি মূল্যায়ন: সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং সেগুলো কমানোর কৌশল প্রদান করা।
  • প্রশিক্ষণ: আপনার কর্মীদের বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  • আইনি প্রতিনিধিত্ব: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কোনো বিরোধ বা আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে আপনার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের গতিশীল পরিবেশ এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত নিয়মাবলীর কারণে, নিয়মিত আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা আপনার ব্যবসার জন্য একটি বিনিয়োগস্বরূপ। এটি আপনাকে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা, মামলা বা সুনাম ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এবং এর আপডেট

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায়শই নতুন নতুন সার্কুলার জারি করে থাকে, যা বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঋণ পরিশোধে ছাড়, ঋণের পুনঃতফসিলীকরণ, রপ্তানি আয় দেশে আনার সময়সীমা ইত্যাদি বিষয়ে অনেক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা এবং সে অনুযায়ী আপনার ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে (www.bb.org.bd) নিয়মিতভাবে সকল সার্কুলার ও আপডেট প্রকাশিত হয়। তবে, শুধু সার্কুলার পড়াই যথেষ্ট নয়, এর সঠিক আইনি ব্যাখ্যা এবং আপনার ব্যবসার উপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব বোঝা প্রয়োজন। অনেক সময় একটি সার্কুলারের সাথে পূর্বের সার্কুলারগুলির সম্পর্ক বা অন্যান্য আইনের সাথে এর সামঞ্জস্যতা বোঝা কঠিন হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী আপনাকে এই বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।

আইনি জটিলতা এড়ানোর উপায়

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার সম্পর্কিত আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:

  1. নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখুন এবং নতুন সার্কুলারগুলি সম্পর্কে অবগত থাকুন।
  2. অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: আপনার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার এর সর্বশেষ আপডেট এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিন।
  3. আইনি পরামর্শ: যেকোনো নতুন সার্কুলার বা আপনার ব্যবসার উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
  4. অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা: আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মাবলী মেনে চলছে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার ব্যবস্থা করুন।
  5. সঠিক ডকুমেন্টেশন: সকল আর্থিক লেনদেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঠিক ডকুমেন্টেশন নিশ্চিত করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার কী?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত বিভিন্ন নীতিমালা, নির্দেশিকা, আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি, যা দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন ২: বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার কেন আমার ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এই সার্কুলারগুলো আপনার ব্যবসার ঋণ প্রাপ্তি, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে। এগুলো মেনে চলা আইনি বাধ্যবাধকতা এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি জটিলতা বা জরিমানার সম্মুখীন হতে পারেন।
প্রশ্ন ৩: আমি কিভাবে সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার সম্পর্কে জানতে পারব?
উত্তর: আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.bb.org.bd) সকল সার্কুলার ও আপডেট খুঁজে পাবেন। তবে, এর সঠিক আইনি ব্যাখ্যা এবং আপনার ব্যবসার উপর এর প্রভাব বোঝার জন্য একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৪: বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার না মানলে কি পরিণতি হতে পারে?
উত্তর: সার্কুলার না মানলে বিভিন্ন ধরনের আইনি পরিণতি হতে পারে, যেমন – আর্থিক জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতকরণ বা এমনকি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে, বিশেষ করে মানি লন্ডারিং বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে।
প্রশ্ন ৫: একজন আইনজীবী কিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারেন?
উত্তর: একজন আইনজীবী সার্কুলারগুলি বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করতে, আপনার ব্যবসা নিয়মাবলী মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করতে, অভ্যন্তরীণ নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করতে এবং প্রয়োজনে আইনি প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।

আইনি সহায়তা প্রয়োজন?

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার সম্পর্কিত যেকোনো আইনি জটিলতা বা পরামর্শের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাহমিদুর রহমান রেমুরা ওয়াহিদ আইন সংস্থা আপনার ব্যবসার জন্য সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকরী আইনি সমাধান প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের অভিজ্ঞ দল আপনাকে সর্বশেষ নিয়মাবলী সম্পর্কে অবগত রাখতে এবং সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করবে।

আমাদের আইনি পরিষেবা সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: আমাদের সেবা সমূহ

সরাসরি যোগাযোগ করতে: যোগাযোগ করুন

“`

Share:

Need Professional Legal Assistance?

Our expert legal team is ready to guide you through your complex legal challenges in Bangladesh and beyond.

Strategic Legal Counsel for Complex Challenges

From Admiralty law to Corporate disputes, our multi-jurisdictional team provides the clarity and defense you need.