TRW Law Firm - Global Header
মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন: আইনি বিধান ও বিষয়বস্তু

মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন: আইনি বিধান ও বিষয়বস্তু

মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA) একটি কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দলিল। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৬ থেকে ১৩ পর্যন্ত MoA-এর বিধান বর্ণিত আছে। এটি কোম্পানির বাহ্যিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।

MoA-এর বাধ্যতামূলক বিষয়সমূহ

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৬ অনুযায়ী MoA-তে অবশ্যই নিম্নলিখিত ক্লজগুলো থাকতে হবে:

  • নাম ক্লজ (Name Clause): কোম্পানির সম্পূর্ণ নাম
  • নিবন্ধিত কার্যালয় ক্লজ (Registered Office Clause): কোম্পানির নিবন্ধিত জেলা
  • উদ্দেশ্য ক্লজ (Objects Clause): কোম্পানির ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য
  • দায়বদ্ধতা ক্লজ (Liability Clause): সদস্যদের সীমিত দায়বদ্ধতার ঘোষণা
  • মূলধন ক্লজ (Capital Clause): অনুমোদিত মূলধন ও শেয়ারের বিবরণ
  • সদস্যতা ক্লজ (Subscription Clause): প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের স্বাক্ষর

উদ্দেশ্য ক্লজের গুরুত্ব

উদ্দেশ্য ক্লজ MoA-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোম্পানি শুধুমাত্র MoA-তে উল্লিখিত উদ্দেশ্যের মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। MoA-এর বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা "Ultra Vires" হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আইনত বাতিল।

MoA সংশোধনের বিধান

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১২ অনুযায়ী, বিশেষ সাধারণ সভায় (EGM) বিশেষ রেজোলিউশনের মাধ্যমে MoA সংশোধন করা যায়। তবে নাম পরিবর্তনের জন্য আরজেএসসির অনুমোদন প্রয়োজন।

MoA বনাম AoA

MoA কোম্পানির বাহ্যিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে, আর আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA) কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনার নিয়মকানুন নির্ধারণ করে।

সম্পর্কিত তথ্য

আরও জানুন: কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম, কোম্পানি আইন বাংলাদেশ

ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান

MoA ড্রাফটিং ও পর্যালোচনায় আইনি সহায়তার জন্য ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান ও TRW আইন ফার্মের সাথে যোগাযোগ করুন

যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি বাংলাদেশ: আইনি কাঠামো ও চুক্তি

যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি বাংলাদেশ: আইনি কাঠামো ও চুক্তি

বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি (Joint Venture Company) গঠন দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতার একটি কার্যকর পদ্ধতি। কোম্পানি আইন ১৯৯৪, বিডা আইন ২০১৬, এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ (উন্নয়ন ও সুরক্ষা) আইন ১৯৮০ অনুযায়ী যৌথ উদ্যোগ পরিচালিত হয়।

যৌথ উদ্যোগের আইনি কাঠামো

বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ সাধারণত প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গঠিত হয়। বিদেশি অংশীদারের ক্ষেত্রে বিডার অনুমোদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অনুমোদন প্রয়োজন।

যৌথ উদ্যোগ চুক্তির মূল বিষয়সমূহ

  • শেয়ার বিভাজন ও মূলধন অবদান
  • ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও পরিচালনা পর্ষদ গঠন
  • মুনাফা বিতরণ নীতি
  • প্রযুক্তি হস্তান্তর বিধান
  • বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি
  • চুক্তি বাতিলের শর্তাবলী

বিদেশি বিনিয়োগের সীমা

বাংলাদেশে বেশিরভাগ খাতে ১০০% বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত। তবে কিছু সংরক্ষিত খাতে (যেমন: অস্ত্র শিল্প, পারমাণবিক শক্তি) বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ।

সম্পর্কিত তথ্য

আরও জানুন: বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন

ব্যারিস্টার রেমুরা মেহেরুবা মাহবুব

যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি গঠনে আইনি সহায়তার জন্য ব্যারিস্টার রেমুরা মেহেরুবা মাহবুব-এর সাথে যোগাযোগ করুন

লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ: আইনি প্রক্রিয়া ও বিধান

লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ: আইনি প্রক্রিয়া ও বিধান

বাংলাদেশে লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশন বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সীমিত কার্যক্রম পরিচালনার বিকল্প। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৮ এবং বিডা আইন ২০১৬ অনুযায়ী লিয়াজোঁ অফিস নিবন্ধন করা হয়।

লিয়াজোঁ অফিসের আইনি সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্য

লিয়াজোঁ অফিস হলো বিদেশি মূল কোম্পানির একটি প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যালয় যা বাংলাদেশে তথ্য সংগ্রহ, বাজার গবেষণা, এবং মূল কোম্পানির প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে এটি সরাসরি বাণিজ্যিক লেনদেন বা রাজস্ব অর্জন করতে পারে না।

লিয়াজোঁ অফিসের অনুমোদিত কার্যক্রম

  • বাজার গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ
  • মূল কোম্পানির পণ্য/সেবার প্রচার
  • স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা
  • মূল কোম্পানি ও স্থানীয় সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা

নিষিদ্ধ কার্যক্রম

  • পণ্য বা সেবা বিক্রয়
  • চুক্তি সম্পাদন
  • রাজস্ব অর্জন
  • আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া ব্রাঞ্চ অফিসের মতোই — প্রথমে বিডার অনুমোদন, তারপর আরজেএসসিতে নিবন্ধন। বিস্তারিত: ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশন এবং বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন

বার্ষিক নবায়ন

লিয়াজোঁ অফিসের অনুমোদন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। নবায়নের জন্য বিডায় বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান

লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশনে আইনি সহায়তার জন্য ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান ও TRW আইন ফার্মের সাথে যোগাযোগ করুন

ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ: বিডা ও আরজেএসসি প্রক্রিয়া

ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ: বিডা ও আরজেএসসি প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশন বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি জনপ্রিয় বিকল্প। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৮-৩৯৬ এবং বিডা আইন ২০১৬ অনুযায়ী ব্রাঞ্চ অফিস নিবন্ধন করা হয়।

ব্রাঞ্চ অফিসের আইনি সংজ্ঞা

ব্রাঞ্চ অফিস হলো বিদেশি মূল কোম্পানির একটি সম্প্রসারিত শাখা যা বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এটি মূল কোম্পানির নামে পরিচালিত হয় এবং মূল কোম্পানি এর দায়বদ্ধতার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী।

ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশনের ধাপ

ধাপ ১: বিডা অনুমোদন

বিডার OSS পোর্টালে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে মূল কোম্পানির কাগজপত্র, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং আর্থিক বিবরণী জমা দিতে হবে।

ধাপ ২: আরজেএসসিতে নিবন্ধন

বিডার অনুমোদনের পর আরজেএসসিতে Form XIX (বিদেশি কোম্পানির নিবন্ধন ফর্ম) জমা দিতে হবে।

ধাপ ৩: বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

বৈদেশিক মুদ্রা নীতি আইন অনুযায়ী, বিদেশি তহবিল আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন।

ব্রাঞ্চ অফিস বনাম লিয়াজোঁ অফিস

বিষয়ব্রাঞ্চ অফিসলিয়াজোঁ অফিস
বাণিজ্যিক কার্যক্রমঅনুমোদিতনিষিদ্ধ
রাজস্ব অর্জনসম্ভবসম্ভব নয়
কর প্রযোজ্যতাপ্রযোজ্যসীমিত
নবায়নপ্রতি বছরপ্রতি বছর

সম্পর্কিত তথ্য

আরও জানুন: বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশন

ব্যারিস্টার রেমুরা মেহেরুবা মাহবুব

ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশনে আইনি সহায়তার জন্য ব্যারিস্টার রেমুরা মেহেরুবা মাহবুব-এর সাথে যোগাযোগ করুন

বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ: আইনি প্রক্রিয়া ও বিধান

বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ: আইনি প্রক্রিয়া ও বিধান

বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যা কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৮ থেকে ৩৯৬ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আইন ২০১৬ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

বিদেশি কোম্পানির প্রকারভেদ

কোম্পানির ধরনউদ্দেশ্যঅনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ
ব্রাঞ্চ অফিসবাণিজ্যিক কার্যক্রমবিডা + আরজেএসসি
লিয়াজোঁ অফিসতথ্য সংগ্রহ ও প্রচারবিডা + আরজেএসসি
প্রজেক্ট অফিসনির্দিষ্ট প্রকল্পবিডা
সাবসিডিয়ারি কোম্পানিস্বাধীন কার্যক্রমআরজেএসসি

বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের আইনি ধাপ

ধাপ ১: বিডা অনুমোদন

বিডা আইন ২০১৬ অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিকে প্রথমে বিডার কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। বিডার ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS) পোর্টালে আবেদন করতে হয়।

ধাপ ২: আরজেএসসিতে নিবন্ধন

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৯ অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে আরজেএসসিতে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • মূল কোম্পানির সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন (নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল)
  • MoA ও AoA-এর অনুবাদিত কপি
  • বোর্ড রেজোলিউশন (বাংলাদেশে অফিস খোলার সিদ্ধান্ত)
  • অনুমোদিত প্রতিনিধির নিয়োগপত্র
  • বিডার অনুমোদনপত্র
  • নিবন্ধিত কার্যালয়ের প্রমাণ

সম্পর্কিত তথ্য

আরও জানুন: ব্রাঞ্চ অফিস রেজিস্ট্রেশন, লিয়াজোঁ অফিস রেজিস্ট্রেশন, যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি

ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান

বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনে আইনি সহায়তার জন্য ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান ও TRW আইন ফার্মের সাথে যোগাযোগ করুন